Letters
পরম শূন্যে জীবনের একমাত্র রং
প্রিয়তমা নক্ষত্র,
তোমাকে অনেক দিন হলো লিখি না। আমার খুব ইচ্ছে, তোমাকে এইসব ভার্চুয়াল পত্রাদির বদলে কোনো একদিন হাতে লিখে একটা চিঠি দেব। কাজের ফাঁকে সময় করে ওঠা মুশকিল হয়ে যায়, তার ওপর আবার পুরো রাত জেগে থাকা জব!
তুমি যদি জানো, তুমি আমার অবচেতন মনে বসবাস করো, তবে? আমি জানি, এই শিশুসুলভ প্রগল্ভতা তোমার হয়তো অলক্ষ্যে ভালো লাগে, ব্যস্ততার সময়ে বিরক্ত হও, হয়তোবা।
আমি কতটুকুই বা তোমাকে চিনি?! যতটুকু চিনতে দাও, যতটুকু প্রকাশিত হও এই ভার্চুয়াল আলেখ্যদর্পণে। একটা মানুষের কত লক্ষ নিযুত স্তর থাকে, যা ছাপিয়ে তার মনের কোঠরে প্রবেশ করা যায়! যদিও সেই সুযোগ হয়, তাও সেই একেকটা একেকটা ইউনিভার্সের মতো বিশাল। এ জন্যই হয়তো মনের হদিশ নিয়ে বিস্তর গান-কবিতা হয়েছে সাহিত্যে!
মানুষ, মানুষের মন, সমাজের এই বাকোয়াস নিয়ম-কানুন, আমি এসব প্যাটার্ন নিয়ে ভাবতে ভাবতে মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যাই। মানুষ আমরা, মুখে বলি এক, মনে থাকে আরেক। কালচার আর ট্র্যাডিশনের ধার ঘেঁষে হাজারটা নিয়মনীতি বানিয়ে রেখেছি শুধু মাত্র ভঙ্গ করার জন্যই। যারা নিয়ম বানিয়েছে, তারাই নিয়ম সবচেয়ে বেশি ভাঙে।
কোথায় যেন পড়েছিলাম, মানুষ মিথ্যে বলে বা সত্য লুকায়, কারণ মানুষ naked truth সহ্য করতে পারে না। আসলেই হয়তো তাই। দুনিয়ায় যা কিছু exist করে, সবকিছুরই প্রয়োজন আছে, বোধ হয়। মিথ্যে হয়তো মানুষের জীবনকে একটু সহজ করে, আশা বাঁচিয়ে রাখে কখনো, অলীক আর অচিন ভরসা নিয়ে এইসব বেদনাসংকুল দিনগুলোতে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যেতে পাশে থাকে, মিথ্যে অনুপ্রেরণা জোগায়!
ADHD brain-এর এই এক সুবিধা: জীবন কখনো boring হয় না। এত কিছু pattern ধরি, chaos theory কতটা real তা মিলাই। আমি বলি, the world is so disciplined in a chaotic way. Chaotic way-তে discipline exist করে; এই মহাবিশ্বের existence-এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর নেই।
তবে কী জানো, নক্ষত্র, শূন্য থেকে হিন্দুইজম বলি বা ইসলাম বলি, এক চরম আর আদি সত্য বিজ্ঞান আর ধর্মে, culture practice-এ মিলে যায়। যা সমাজের অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বস্ত গন্ড মূর্খ মানুষদের বাঁচিয়ে রেখেছে, আজকের এই যতটুকুই সভ্য মানুষে পরিণত করেছে, তা হলো:
শূন্য থেকে এসেছে সব, শূন্যেই মিলিয়ে যাবে।
দুনিয়ার আদি থেকে অন্ত, যেখানেই যাও, এই ধ্রুব সত্য অপরিবর্তিত থাকে। ধর্মের নামে, সমাজের শৃঙ্খলার নামে যতই অদ্ভুত আর অযৌক্তিক নিয়ম তৈরি করুক, অন্ধকারের সাথে আলো মিলেই থাকে; তার মাঝেও এই ধ্রুব সত্য অপরিবর্তিত।
এই পৃথিবী, এই সোলার সিস্টেম, এই মিল্কিওয়ে, সবাই ঘুরছে। কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছে, কোথায় পৌঁছবে?
তার এক কথায় সব existence-এ এসেছিল, শূন্য থেকেই সব সৃষ্টি হয়েছিল! কী পার্থক্য! এই নিয়ে তর্ক করে কত মানুষের সময় যায়!
তবে এই অসংখ্য প্রশ্নের মাঝে Christopher Nolan-এর মতো আমিও খুব ভালোবাসাকে ভালোবাসি। সময়কে আরেক মাত্রা বানিয়ে ভ্রমণ করলেও আমার বিশ্বাস, এই মহাবিশ্বের সবকিছুর সবচেয়ে মৌলিক absolute unit এনার্জি আর Quantum Mechanics law-গুলোর চেয়েও মানুষের এই একটু-আধটু আবেগের দাম এবং শক্তি সবচেয়ে বেশি।
ভালোবাসা আর কৌতূহল আছে বলেই মানুষ মহাবিশ্বের মতো এই বিরান পরম শূন্যে রং খুঁজে পায়!
তুমি আমার জীবনের সেই রং! আমার জীবনের একমাত্র নক্ষত্র!
তোমাকে ভালোবাসি; কারণ ভালোবাসাটা আমার কাছে বেছে নেওয়া কোনো অপশন নয়, সহজাত একটা অনুভূতি।