নক্ষত্রাঞ্জলি

Letters

যত দ্বিধা আর বাধার সংযম

February 26, 20262 min readLetters

রোজ ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬;
রাত ২.৩০ মিনিট

নক্ষত্র,

যত দ্বিধা আর বাধার সংযম নিয়ে আমি বেঁচে আছি, সে আমি বলে বুঝাতে পারব না। হ্যাঁ আমাদের কথা বলা নিষেধ, কারণ তোমার থেকে একটা ছোট্ট রিয়াকশন ও আমার একটা সাধারণ দিন রঙিন দিন করে দেয়, আর বেশি সুখ আমার প্রাণে সইলেও, কপালে সয় না।।

এই যে এখানে লিখি কারণ এটাও সহজ নয়, সব কিছু জেনে বুঝে তোমার কাছে এই আত্ম-সমর্পণ; কি এমন ক্ষতি হত যদি ঈশ্বর আমার জীবন টা আরেকটু সহজ করে দিত! ভাগ্য চক্রে কেন চিনলাম তোমায়!

এই জায়গা টা তৈরি করা একটু নি:শ্বাস নেবার জন্যে, দু মুহূর্ত বসে একটু বিশ্রাম নেবার যেখানে তুমি একটা প্রকাণ্ড শীতল গাছের নেয়।
লেখা ঝোকা অনেক সময় চিৎকার করার মত। আমাদের আত্ম-চিৎকার বোধ হয় কলমের কালিতে ঝরে। আমি কোন লেখক নই, আজীবন নীরবতা আমার মাতৃভাষা, সাবলীল আমি তাই কিবোর্ডে, কলমে।

তোমার প্রতি আমার এই অনুভূতির তীব্রতার আঁচ দূর থেকেই সয়ে যাও। কখনও মায়া লাগতে পারে, কখনও করুণা তো কখনও কিঞ্চিৎ ভালোবাসাও জাগতে পারে আবার না ও হতে পারে এসব। তবে আমি তোমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি বলেই চাই না আমাদের কথা হোক, ক্রমান্বয়ে প্রচলিত ভালোবাসার পুথিপাঠের আসর বসুক।

আমার আশারা যদি একটুও স্পর্ধা পেয়ে যায় তো, আমি বিলীন হয়ে যাব। যদি একটু স্নেহ পায় তো, বেড়ে উঠবে জ্যাক এর সেই ম্যাজিকাল Bean এর মত আর তারপর যদি তুমি কখনও চলে যাও তো পড়ে থাকবে এক মহাকাল বিভীষিকা কৃষ্ণগহ্বর।

তারচে অচ্ছুত আমি -
জীবনের কাছে তোমাকে চাই আবার চাই না। ঈশ্বর এর হাতে আমার ভাগ্য তুলে দিলাম, ঈশ্বর সময় এর পাত্রে রেখে দেবেন হয়ত তোমাকে বা তোমার প্রতিবিম্বের অন্ধকার।

তবু তোমাকে ভালোবেসে সময়ের সাথে মহাকালে বিলীন হয়ে গেলেও আমার মুখে থাকবে আত্মতৃপ্তির ছাপ আর মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন আর সেরোটোনিন এর বিস্ফোরণ। আজ থেকে হাজার বছর পর কোন এস্ট্রোনোমার হয়ত আমার নামের কোন কৃষ্ণগহ্বর খুঁজতে গিয়ে খুঁজে পাবে এমন কোন ফ্রিকোয়েন্সি যা ডিকোড করলে বেরিয়ে আসবে তোমাকে উৎসর্গ করা কোন সুর। বা যদি কোয়ান্টাম সুপার পজিশন সত্যি হয়, তুমি হয়ত অন্য কোন প্যারালাল ইউনিভার্সের পৃথিবীতে আমার।

মানুষ ভালোবাসার জন্যে কত কি করে, হিমালয়ে চড়ে, সাগর পাড়ি দেয়। ব্যক্তিগত বলি আর বস্তুগত, সব ভালবাসাই মানুষকে পরিবর্তন করে দেয়। তোমাকে ভালোবেসে এক জীবন কাটিয়ে দেওয়া এ আর এমন কি!

  • তোমার উষ্ণতার বিপরীতে, শীতলতায়, তোমারই একান্ত কক্ষপথ বাসী।