Letters
কক্ষপথে দুইজন
প্রিয় নক্ষত্র,
কিছু দিন খুব ক্লান্তি দায়ক, নক্ষত্র। শরীর, বিশেষত মন—ব্রেইন যা-ই বলি। কিছু কিছু দিন আমরা ক্লান্ত হয়ে ডুবে যাই অফ-ওয়াইট বিষাদে, কুয়াশার মত বিষাদের লেয়ারে।
এক্সিস্টেন্সিয়াল আর ফিজিক্যাল বার্ন আউটের বাইরেও কিছু মন খারাপি ইভেন্ট থাকে যার কোন নাম থাকে না। ব্রেইন কেমিক্যালের বাইরেও, সাধারণ মানুষ হিসেবে কমপ্লিকেটেড মেডিকেল সায়েন্সের বাইরে আবেগ-অনুভূতির সহজাত চেনা পরিচিত হিসেবে কিছু অনুভূতি থাকে যার কোন নাম থাকে না—যেমনটা আমরা মাঝে মাঝে বলি: I just want to cease to exist.
মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনে তুমি নামক বাস্তবতা থাকলে মন্দ হতো না। তোমার আমার একটা বাসা হলে মন্দ হতো না। দিন শেষে বাসায় ফিরে দুজন দুজনকে জিজ্ঞেস করা যেত, কেমন ছিল দিন? সারাদিনের সারাংশ বলো! ফ্রেশ হয়ে নাও, কফি নিয়ে আসছি। হ্যাঁ, ডিনারের আগে খালি পেটেই কফি—সাবেক মেডিকেল প্রফেশনাল হয়েও এই অস্বাস্থকর প্র্যাক্টিসের জন্য তোমাকে সরি বলতাম না।
নিজের রুমে বিছানায় শুয়ে সিলিংয়ের দিকে চোখ পড়তেই যে তুমি-আমি, যে আমরা হয়ে উঠি—আমাদের আমি, আমার আমি, তোমার তুমি—তারা নীরবতায় সাবলীল কি না, তাতেই নির্ভর করে যুগপৎ জীবনের সমীকরণ।
কোথায় যেন পড়েছিলাম, যখন কেউ দেখছে না তখন তুমি কেমন? আসলেই তুমি সে, যখন তোমাকে কেউ দেখে না—বাকি সব মুখোশ, ছদ্মবেশ, অভিনয়। সেই বিখ্যাত লাইনটা: পৃথিবী এক বিশাল নাট্যমঞ্চ, আর আমরা সবাই অভিনেতা।
জীবন তার মধ্যের সেই নীরবতায় সাবলীল সহ-অভিনেতার সাথে শেয়ার করতে পারলেই বোধহয় দু-দণ্ড শান্তি মেলে জীবনে।
উষ্ণতায় আর নীরবতায় সাবলীল কক্ষপথবাসী।