Letters
নক্ষত্র, সব ক্রিঞ্জ কাটা ক্রিঞ্জ!!
নক্ষত্র,
তোমাকে উদ্দেশ্য করে আমার পুরনো লেখাগুলো পড়লাম। বিচার-বিবেচনা করে যা খুঁজে পেলাম তা হলো, আমি খুব বেশি ‘ক্রিঞ্জ’ নই।
হ্যাঁ, আমি মানছি কিছু লেখায় অতি আবেগী হয়ে পড়েছি। তবে অধিকাংশ লেখায় আমার প্রচেষ্টার কমতি ছিল না, যতটা সংবরণ করে উপস্থাপন করতে পারি আমার হৃদয় নিংড়ানো নক্ষত্রাঞ্জলি।
তবে তোমাকে ভালোবাসার যে সংবিধান আমি লিখেছি, সেখানে তোমার কাছে আমার আত্মার বিশুদ্ধতম রূপ প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। প্রগল্ভ হলে কিঞ্চিৎ সরব, সগর্ব প্রগল্ভ, তবে প্রপঞ্চ নয়। আমার মননে তোমার যে ছবি, তা আমি লুকোচাপা করে দুনিয়ার কাছে, এমনকি তোমার কাছেও উপস্থাপন করলে, সে আমার শোভা পায় না।
তাই গত চিঠিতে (একই শহরে, একই মেঘের নিচে একই বাসন্তী বৃষ্টি) বলেছি যে আমি তোমার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে বেশি “ক্রিঞ্জ” পন্থা অবলম্বন করব না। তবে এগুলো সব তুলে নিচ্ছি। কারণ অনুভূতিকে সম্মান করার কথা বলে সেগুলো চাপা দেওয়ার প্রয়াস কিঞ্চিৎ দ্বিমুখিতা হয়ে গেল।
‘ক্রিঞ্জ’ রিলেটেড সব লেখা কাটা ওই চিঠি থেকে। এই বাক্যটা থেকে একটা রম্য গল্প মনে পড়ে গেল। গল্পটা ছিল এমন:
একটা ছেলে ক্লাস টেনে পড়ে। সব কথায় ‘বাল’ বলতে বলতে এমন মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে যে পড়াশোনা আর লেখার মধ্যেও সে ‘বাল’ ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে। একবার ফাইনাল পরীক্ষার সময় বাংলা রচনায় সে ‘আমাদের গ্রাম’ রচনা লিখল। কিন্তু “বাল” শব্দের ব্যবহার এত বদভ্যাস হয়ে গিয়েছিল যে ততদিনে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না আর।
সে রচনার মধ্যে প্রচুর “বাল” শব্দটা ব্যবহার করে ফেলল। যেমন গ্রামের বর্ণনা লিখতে গিয়ে লিখে ফেলল, ‘আমাদের গ্রামটি একটি “বালের” গ্রাম’।
রচনা অনেক বড় হয়, আর সবাই শেষে লেখে। পরীক্ষার সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। তাই প্রত্যেক লাইনে তার এই ‘বাল’ শব্দের ব্যবহার না কেটে সে ভাবল, একবারে লেখা শেষে রিভাইস করে কারেকশন করে নেবে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, লিখতে লিখতে সময় একদম শেষ। স্যার অন্য দিক থেকে খাতা সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। তখন ছেলেটা পুরো রচনার খাতা রিভাইস করার সুযোগ না পেয়ে উপস্থিত বুদ্ধি থেকে একটা কাজ করল।
খাতার শেষে লিখে দিল: “উপরের সব ‘বাল’ কাটা ‘বাল’।”
মানে হাতে কলমে ‘বাল’ লেখা গুলো না কাটতে পেরে সে লিখে দিল, “ওপরের সব বাল কাটা বাল।”
আজ এ পর্যন্তই।
: কক্ষপথ থেকে, উষ্ণতায় আর ‘ক্রিঞ্জ’ এ
: সব ক্রিঞ্জ কাটা ক্রিঞ্জ!!