Letters
প্রিয় নক্ষত্র, প্রযত্নে আকাশ
প্রিয় নক্ষত্র,
প্রযত্নে আকাশ
বেদনার কথা বলি আর আনন্দের,
শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়াই তোমার কাছেই।
তুমি আমার সব।
কিছু দিন আমি একেবারে রক্ত-মাংসের মানুষের মতো হয়ে যাই। হৃদয় বিদ্রোহ করে ওঠে। তখন মনে হয়, তোমাকে না পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
আবার ঠিক সেই তুমিই জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।
আমি জানি না, আমার এসব ছাইপাঁশে তুমি বিরক্ত হচ্ছ নাকি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই নিচ্ছ। আদৌ পড়ছ কি না তাও জানি না।
তবু লিখি।
কারণ তোমাকে লিখলে আমার মন কিছুটা হালকা হয়। তুমি আমার প্রাথমিক প্রাপক, কিন্তু স্বীকার করি এখানে আমার নিজেরও একটু স্বার্থ লুকিয়ে আছে।
কেমন আছ?
আমার প্রার্থনার ভাঁজে ভাঁজে তুমি থাকো। পৃথিবীর যত মঙ্গল, সব যেন তোমাকে ঘিরেই থাকে। বিনিময়ে আমার যতটুকু পুণ্য আছে, তা খরচ হয়ে যাক, তবু তুমি আনন্দে থাকো।
তোমাকে নিয়ে প্রতিদিন কত ভাবনা। অনুভূতিগুলো কখনো গাছের মগডালে, কখনো গাছতলায়। ওঠানামা করে। তবু অদ্ভুত এক নিরাপত্তা আছে এই একতরফা ভালোবাসায়।
তোমাকে আমি একাই ভালোবাসছি, কোনো উত্তর, অনুমতি বা অনুমোদনের অপেক্ষা না রেখে। এতে তোমাকে আমার মনের মতো করে সাজাতে পারি।
জানি, হয়তো তুমি পুরোপুরি তেমন নও। তোমারও খুঁত আছে, রক্ত-মাংসের বাস্তবতা আছে।
তবু আমার কাছে তুমি দেবীতুল্য। সৌন্দর্য, গুণ, সহানুভূতি, সব দিক থেকেই ষোলআনা।
জীবনের পথে এক-দু’বার প্রেমে পড়েছি। কিন্তু তোমার মতো কাউকে পাইনি। বলার জন্য বলছি না।
তোমার ভেতরের empathy অংশটা আমার আত্মাকে অদ্ভুতভাবে প্রতিফলিত করে।
আমি কোনোদিন soulmate ধারণায় বিশ্বাস করতাম না। দেখেছি মানুষ দূরে সরে যায়, একে অন্যকে আহত করে, হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।
কিন্তু তোমাকে দেখে শব্দটার প্রতি বিশ্বাস ফিরেছে।
নক্ষত্র, তোমাকে এসব জানিয়ে কি আমি ভুল করলাম?
তোমার হাতে কি অজানা বিষাদের নীল তুলে দিলাম?
হয়তো পাঁজরের ভেতর গোপন রাখলেই ভালো হতো। আমি চাই না তোমার কষ্টের কারণ হতে।
পৃথিবীতে কতদিন আছি জানি না। হয়তো সেই অজানাই আমাকে লিখতে বাধ্য করেছে।
জীবনের কোনো প্রান্তে দাঁড়িয়ে যদি মনে হয় তুমি হেরে যাচ্ছ, আমার কথা মনে করো। শুধু তোমার অস্তিত্বেই আমি অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই।
তোমার কক্ষপথে এক অদৃশ্য ভালোবাসার চাদর হয়ে আমি থাকব, নীরবে, আজীবন।
অনেকের কাছে আমার এসব প্রগলভতা মনে হতে পারে।
কিন্তু তুমি জানো, আমাদের মধ্যে যারা neurodivergent, তাদের মস্তিষ্ক একটু অন্যরকমভাবে ভালোবাসে, অন্যরকমভাবে জড়িয়ে পড়ে।
আজ আর বেশি লিখব না। ছোটবেলার একটা ঘটনা বলি।
আমি তখন সিক্সে পড়ি। ক্লাস টু থেকে গান শেখা শুরু। খুলনা বেতারে বাচ্চাদের এক অনুষ্ঠানে অডিশন দিয়ে নজরুল সঙ্গীত গাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। সাধারণত অনুষ্ঠানগুলো একদিন আগে রেকর্ড হতো। কিন্তু আমার প্রথম দিনেই গিয়ে শুনি লাইভ হবে।
নার্ভাসনেসে মুখস্থ লিরিক্স ভুলে গেলাম। পাশে আমার সমবয়সী এক মেয়ে ছিল, সেও শিল্পী। সে কাগজে লিরিক্স লিখে দিল। তারপর সেটাই দেখে গান করলাম।
সেদিন যে ভয় পেয়েছিলাম, মানুষ বোধহয় জ্বিন-ভূতেও এত ভয় পায় না।
নক্ষত্র, তোমাকে নিয়মিত লিখব। তোমার উদ্দেশ্যে, কিন্তু নিজের প্রয়োজনে।
তোমাকে লিখলে আমি একটু সুস্থ থাকি।
এগুলো কী নামে ডাকা যায় জানি না। চিঠি, কনফেশন, না কি ফাঁকা প্রলাপ।
শুধু এটুকু জানি,
তোমার মূল্য আমার কাছে জীবনের মতোই।
তোমার ভালো থাকা খুব জরুরি।
সবচেয়ে জরুরি।
তোমার অদৃশ্য কক্ষপথবাসী